স্মার্টফোন কেনার গাইডলাইন
স্মার্টফোন কেনার আগে প্রয়োজনীয় ফিচার সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ডিভাইসটির অপারেটিং সিস্টেম, প্রসেসর, স্ক্রিন, ক্যামেরা, মেমোরি এবং ব্যাটারি সক্ষমতা জেনে নেওয়া খুবই প্রয়োজন। ব্যবহার এবং চাহিদা ভেদে কোন ফিচারটি বেশি দরকার তা জানা গেলে কাঙ্ক্ষিত হ্যান্ডসেটটি কেনা যাবে সহজেই।প্রসেসর : স্মার্টফোনের সব প্রোগ্রাম ও কমান্ড প্রসেস করে থাকে এর ডেটা প্রসেসিং চিপ। এই চিপ কোরভিত্তিক। যেমন_ সিঙ্গেল কোর, ডুয়াল কোর, কোয়াডকোর, অক্টাকোর ইত্যাদি। এই কোর ফোনের কর্মদক্ষতা ও গতির পরিচায়ক। অর্থাৎ, যে প্রসেসরের কোর বেশি হবে তার প্রসেসিং গতিও তত বেশি। পাশাপাশি স্মার্টফোনের জিপিইউ বা গ্রাফিক্যাল প্রসেসিং ইউনিটের মানও এক্ষেত্রে গুরুত্ববহ। কেননা জিপিইউ অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাফিক্যাল কাজের সময় সিপিইউর ওপর চাপ কমিয়ে দেয়। হাই ডেফিনেশন মুভি বা ভিডিও বা থ্রিডি গেম কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা যাবে তাও নির্ভর করে জিপিইউর ওপর। র্যাম ও রম : র্যাম ও রম স্মার্টফোনে অপরিহার্য দুটি অংশ। র্যাম ফোনের কাজের দক্ষতা ও গতিকে অটুট রাখে। অধিক বা উচ্চতর র্যাম মোবাইল ডিভাইসকে দ্রুত চলতে সাহায্য করে এবং অধিক র্যাম থাকলে অনেক অ্যাপ্লিকেশন একসঙ্গে চালানো যায় এবং অনেক ভারি সফটওয়্যার ও গেম খেলার জন্য অধিক র্যামের প্রয়োজন হয়। আর রম হচ্ছে ফোনের স্থায়ী মেমোরি বা এর ডেটা ধারণক্ষমতা। ফোনে যতটুকু মেমোরি ধারণ ক্ষমতাই থাকুক না কেন, অতিরিক্ত কতটুকু যোগ করা যায় তা কেনার সময়ই জেনে নেওয়া উচিত। পর্দা : স্মার্টফোন 'টাচ স্ক্রিন' হবে না ভাবাই যায় না। ১০ হাজার টাকা বাজেটের স্মার্টফোনের পর্দাগুলো সাধারণত ৩.৫ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে। পর্দার রেজ্যুলেশনে যেমন ভিন্নতা থাকে তেমনি এটি কি ক্যাপাসিটিভ, আইপিএস, অ্যামোলেড না কর্নিং গোরিলা এর ওপরই নির্ভর করে স্মার্টফোনের দাম। সাধারণত ৭২০ থেকে ১০৮০ পর্যন্ত পিক্সেলের ডিসপ্লে ব্যবহারকারীর চোখ শীতল করে। ক্যামেরা : স্মার্টফোন মানেই এখন ফ্রন্ট ও ব্যাক ক্যামেরা। ক্যামেরার পিক্সেল, লেন্স, ফ্লাশ লাইট ইত্যাদি বিষয়গুলো সব ক্রেতার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। স্মার্ট নকশার পাশাপাশি এর ছবি ওঠানো ও ভিডিও করার বিষয়টিও প্রাধান্য পায়।ওএস: অপারেটিং সিস্টেম বা ওএস হলো পরস্পর নির্ভরশীল একগুচ্ছ সফটওয়্যার। এ কারণেই মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারকে ইনস্টল এবং চালনার পুরোটাই নির্ভর করে ওএসের ওপর। এজন্য কোনো মোবাইলের কর্মদক্ষতা ও কাজের ভিন্নতার জন্য এক এক রকম ওএস তৈরি করা হয়। এ কারণে ওএস যত আপডেটেড হবে, ততই মঙ্গল। ১০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে সিংহভাগ স্মার্টফোনই অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মের। হাতেগোনা কয়েকটি আছে যার অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ। তবে সম্প্রতি এখানে যুক্ত হয়েছে টাইজেন। ব্যাটারি : স্মার্টফোনে কথা বলার পাশাপাশি নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করায় চার্জ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন। ফলে দিন অর্ধেক পেরোতে না পেরোতেই স্মার্টফোন আর স্মার্ট থাকে না। আর তাই কেবল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি হলেই হয় না, কেনার সময় ব্যাটারির অ্যাম্পেয়ারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বেশি অ্যাম্পেয়ারের পাশাপাশি যাচাই করে নিতে হয় এর স্ট্যান্ডাবাই টাইম, টক টাইম, মিউজিক প্লে-ব্যাক টাইম এবং ব্রাউজিং টাইম।





